Policy : National Youth Policy, 2003


                       
        গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
                                  
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

                                   জাতীয় ক্রীড়ানীতি
                                  
    ১৯৯৮
মুখবন্ধ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের বিশ্রাম, বিনোদন ও অবকাশের অধিকার অর্জন নিশ্চিত করতে জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুুগত ও সংস্কৃতিগত উন্নতিসাধন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসাবে ক্রীড়াচর্চা, ক্রীড়া অনুশীলন ও ক্রীড়ায় অংশগ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা পালন ও ক্রীড়ার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৮৯ সালে প্রথম জাতীয় ক্রীড়ানীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের নেতৃত্বে বার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটি কতর্ৃক প্রণীত খসড়া জাতীয় ক্রীড়ানীতি যথাযথ অনুমোদনের পর ১৯৮৯ সালের ১২ জুলাই তারিখে জারী করা হয়।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যমান ক্রীড়ানীতি পর্যালোচনান্তে ক্রীড়াক্ষেত্রে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট বিবেচনাক্রমে জাতীয় ক্রীড়ানীতি সংশোধিত আকারে প্রণয়নের উদ্দেশ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটি ক্রীড়ানীতি '৮৯-কে ভিত্তি হিসেবে ধরে জাতীয় ক্রীড়া সম্মেলন ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ এর সুপারিশমালার আলোকে জাতীয় ক্রীড়ানীতির খসড়া প্রণয়ন করে।

দেশে ক্রীড়ার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যতে লক্ষ্যসমূহের সাথে সঙ্গতি রেখে ২৬টি অনুচ্ছেদে প্রণীত এই জাতীয় ক্রীড়ানীতি '৯৮ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।


ক্রীড়া উন্নয়ন এবং সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে ক্রীড়া সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলে এই ক্রীড়ানীতি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হবেন- এ মর্মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় দৃঢ় আস্থা পোষণ করছে।

                                                               এ এস এম শাহজাহান
                                                               সচিব
                                                               যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
                                                             
 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
                                                               যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

জাতীয় ক্রীড়ানীতি

১। ভুমিকা ঃ                                                                     Go TOP

১ঃ১। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৫ অনুচ্ছেদে জনসাধারণের জীবনযাত্রার বস্তুগত ও সাংস্কৃতিক মানের উন্নতি সাধন করা রাষ্ট্রের অন্যতম কতর্ৃব্য বলে স্বীকৃত হয়েছে।

১ঃ২। ক্রীড়াচ্র্চা, ক্রীড়া-অনুশীলন ও ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ এবং উপযুক্ত শারীরিক শিক্ষা জাতীয় সুস্বাস্থ্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াচর্চা শারীরিক শক্তি ও ক্ষমতাকে পূর্ণতাদানের মাধ্যমে জাতীয় সৃজনী শক্তিকে উৎকর্ষ প্রদান করে। উৎপাদনক্ষম ও স্বাস্থ্যবান যুবশক্তি গঠনে শারীরিক সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্বাস্থ্য সংরক্ষনের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য।

১ঃ৩। শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াচর্চা জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ক্রীড়াচ্র্চা ধর্ম-বর্ণ বয়স নির্বিশেষে সকল নারী-পুরুষের জন্মগত অধিকার। বিশ্বের দেশে দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ক্রীড়ার বৈচিত্র্যময়তা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

১ঃ৪। মনোবল, নৈতিকতা, সংযম ও শৃংখলা ক্রীড়াবিদদের পারদর্শিতা বৃদ্ধি এবং ক্রীড়ানৈপুণ্য অর্জনের অপরিহার্য সোপান।

১ঃ৫। সুস্থ ক্রীড়াচর্চা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টির মাধ্যমে কৈশোর ও যৌবনকে সংহত করে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। জাতির যুবশক্তির স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও চিরায়ত বিকাশের সহজ মাধ্যম হচ্ছে ক্রীড়া।

১ঃ৬। বিশ্বের অন্যান্য সকল দেশের ন্যায় অলিম্পিকের সুমহান আদর্শ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান পালনে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্রীড়া ক্ষেত্রে জাতীয় মান উন্নয়ন তথ্য আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে আন্তঃদেশীয় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ব মানবাধিকার আন্দোলন ঘোষিত "সবার জন্য ক্রীড়া" নীতি বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর।

১ঃ৭। দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের মধ্যে ক্রীড়া সচেতনা বৃদ্ধি করে পরিকল্পিত উপায়ে গ্রাম থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত ক্রীড়ানুশীলনের জন্য বস্তুগত অবকাঠামো, সুযোগ-সুবিধা ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মক্ষম জাতি গড়ে তোলা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে জাতীয় ক্রীড়া নীতি প্রণীত হলো।

২। উদ্দেশ্যঃ                                                                         Go TOP

২ঃ১। দেশের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে ক্রীড়া সচেতনতা সৃষ্টি করা।

২ঃ২। ক্রীড়াক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করা।

২ঃ৩। নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকল বয়সের মানুষ যাতে সহজভাবে ক্রীড়া কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা।

২ঃ৪। ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা।

২ঃ৫। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ শ্রেণীর নাগরিকদের জন্য বিশেষ ধরণের ক্রীড়ার ব্যবস্থা করা।

২ঃ৬। দেশজ কৃষ্টি ও সাংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতা করা ও গ্রামীণ খেলাকে উৎসাহিত করা।
২ঃ৭। শিক্ষাঙ্গনে ক্রীড়ার পরিবেশ উন্নত করা এবং খেলাধুলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা।

২ঃ৮। বর্তমান ক্রীড়া অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করা।

২ঃ৯। ক্রীড়ায় আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রয়াস চালানো।

২ঃ১০। মহিলা ক্রীড়ার বিকাশের জন্য যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

২ঃ১১। ক্রীড়াক্ষেত্রে সরকারী আনুকূল্যের পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগ ও পুষ্ঠপোষকতাকে উৎসাহিত করা ।

৩। ক্রীড়া প্রশিক্ষণঃ                                                                Go TOP

ক্রীড়া প্রশিক্ষণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও তৃণমুল হতে প্রতিভা অন্বেষণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোগ্য প্রশিক্ষক দ্বারা বিজ্ঞান সম্মত প্রশিক্ষণ প্রদান করা ।

৪। শিক্ষাঙ্গনে ক্রীড়া ঃ                                                            Go TOP

৪ঃ১। শিক্ষাঙ্গন ক্রীড়া প্রতিভা চয়ন ও বিকাশের চারণক্ষেত্র। শিক্ষাঙ্গন ক্রীড়াঙ্গনের সূতিকাগার হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে খেলার মাঠসহ খেলাধুলার প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে।

৪ঃ২। শিক্ষাঙ্গনে ক্রীড়া শিক্ষক ও প্রশিক্ষক, ক্রীড়া অনুষ্ঠানের জন্য সাংগঠনিক কাঠামো এবং বয়সভিত্তিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে।

৪ঃ৩। সারাদেশে প্রতিবছর নিয়মিত আন্তঃ স্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হবে।

৫। ক্রীড়া শিক্ষা ব্যবস্থা ঃ                                                       
Go TOP

৫ঃ১। দেশের স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা এবং ক্রীড়া সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয় বাধ্যতামূলক হিসাবে অন্তভর্ূক্ত হবে। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে স্কুল, কলেজ মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে একই বিষয়ে ১০০ নম্বরের একটি ঐচ্ছিক পাঠ্যক্রম অন্তর্ভূক্ত হবে। উভয় ক্ষেত্রে মোট ১০০ নম্বর ব্যবহারিক ও তত্বীয় অংশে বিভক্ত থাকবে।

৫ঃ২। প্রতিটি বিভাগে অন্ততঃ একটি করে শারীরিক শিক্ষা কলেজ স্থাপন করা।

৫ঃ৩। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা এবং ক্রীড়াশিক্ষায় উচ্চতর পাঠ্যক্রম চালু করার মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সর্বোচ্চ কেন্দ্র ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়ার মানোন্নয়নে নিউক্লিয়াস হিসাবে গড়ে তোলা।

৬। মহিলা ক্রীড়া ঃ                                                 Go TOP

দেশের সার্বিক ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে মহিলা ক্রীড়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সর্বস্তরের ক্রীড়া সংগঠন এবং ক্রীড়া নেতৃত্বে মহিলাদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে। মহিলাদেরকে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা প্রদানে এবং প্রশিক্ষণ অনুশীলনে গুরুত্ব দিতে হবে। সার্বিকভাবে মহিলা ক্রীড়াকে সামাজিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

৭। প্রাধিকার ঃ                                                                 Go TOP

সরকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সকল খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতা করবেন। তবে, জনপ্রিয়তা ও সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, শু্যটিং, এ্যাথলেটিক্স, দাবা সাঁতার ও ভলিবল বিশেষ অগ্রাধিকার লাভ করবে। এই সকল ক্রীড়া সর্বোচ্চ আনুকূল্য লাভের যোগ্য বিবেচিত হবে। সরকার কাবাডিসহ দেশজ ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার প্রসার ও উন্নয়নে সচেষ্ট থাববেন। সকল ক্রীড়ার ভিত্তি সুস্থ দেহের জন্য শরীর চর্চার ব্যাপক প্রসারকে উৎসাহিত করা হবে।

৮। ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণঃ                                                       Go TOP

৮ঃ১। অনুন্নত দেশগুলোতে আর্থ-সামাজিক অবস্থার কারণে অনেক প্রতিভা অকালেই ঝরে যায়। উন্নত বিশ্ব সম্পদ প্রাচুর্যের কারণে প্রতিভাকে অংকুর হতেই ধরে রাখতে পারে। অংকুর হতে পালিত প্রতিভা নিজের এবং জাতির জন্য সম্মান বয়ে আনে। নিয়মিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গ্রাম থেকে থানা, থানা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে কেন্দ্রে বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের সনাক্ত করে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সাহায্যে তাদের মানোন্নয়নের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

৮ঃ২। দেশব্যাপী স্কুলসমূহই তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও চিহ্নিতকরণের উপযুক্ত ক্ষেত্র বলে বিবেচিত হবে।

৯। বেসরকারী উদ্যোগঃ                                                            Go TOP

ক্রীড়া একটি বিশেষ ক্ষেত্র। এর প্রসার ও উন্নয়নের জন্য বেসরকারী উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এ উদ্যোগকে সফল করার লক্ষ্যে বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কতর্ৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত ক্রীড়া সংস্থাকে দানকৃত ১০ (দশ) লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ আয়করমুক্ত রাখার ব্যবস্থাকরণ। তবে শর্ত থাকবে যে একইসাথে আয়কর মুক্ত রাখার সুযোগ যাতে কোন অপব্যবহার না হয় এবং ক্রীড়া সংগঠনসমূহের আর্থিক শৃংখলা যাতে রক্ষিত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

১০। উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা ঃ                                                     Go TOP

১০ঃ১। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুনাম অর্জনকারী খেলোয়াড় ও ক্রীড়াব্যক্তিত্বের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থাকরণ। অবসরকালীন ও আপৎকালীন সময়ে ক্রীড়াবিদ/সংগঠকগণকে ভাতা প্রদানের ব্যবস্থাকরণ।

১০ঃ২। জেলা কোটায় কৃতি ক্রীড়াবিদদের চাকুরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়ার ব্যবস্থা রাখা।

১১। প্রতিবন্ধীদের ক্রীড়া সুযোগ ঃ                                               Go TOP

খেলাধুলায় সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ-এর জন্য তাদের উপযোগী বিশেষ ধরণের খেলাধুলার আয়োজনের ব্যবস্থা করা।

১২। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ঃ                       Go TOP

১২ঃ১। প্রতিযোগিতামূলক খেলাধূলাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অলিম্পিক, কমনওয়েলথ, এশিয়ান গেমস, সাফ গেমস এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাসমূহ কতর্ৃক আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ।

১২ঃ২। বিদেশে ক্রীড়া প্রতিনিধি দল প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সঙ্গতি এবং সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াক্ষেত্রে যথোপযুক্ত মান অর্জন সাপেক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বিবেচিত হবে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য সরকারের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে।

১৩। ক্রীড়া সচেতনতা সৃষ্টি ঃ                                                    Go TOP

বৃহত্তর জনগোষ্ঠিকে ক্রীড়ায় অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিতকরণ। গণমাধ্যম ক্রীড়া কার্যক্রম প্রচার করে জনসাধারণের মধ্যে ক্রীড়া সচেতনতা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। টেলিভিশন জনপ্রিয় দেশী/বিদেশী ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

১৪। ক্রীড়াসামগ্রীঃ                                                                
  Go TOP

১৪ঃ১। ক্রীড়াসামগ্রী উৎপাদনে সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগ সৃষ্টিকরণ। উৎপাদিত সামগ্রীর গুনগত মান নিশ্চিতকরণের লক্ষে বি এস টি আই কতর্ৃক গুনগতমান সম্পর্কে সনদ গ্রহণের অন্তভর্ূক্ত করতে হবে এবং দেশীয় বেসরকারী অর্থলগি্নকারী প্রতিষ্ঠান কতর্ৃক ক্রীড়াসামগ্রী শিল্প গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ পু্রদানের ব্যবস্থাকরণ।

১৫। পুষ্টিঃ                                                                          Go TOP

ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজনীয় দৈহিক ও শারীরিক শক্তি অর্জনের লক্ষে পুষ্টিকর খাদ্য পরিবেশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। জনসাধারণের মধ্যে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করা।

১৬। মাদক দ্রব্যে অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থাঃ                                    Go TOP

ক্রীড়াঙ্গনকে মাদকদ্রব্যের সকল প্রকার অপব্যবহার থেকে মুক্ত রাখার জন্য সকল সংগঠনকে সক্রিয় হতে হবে। মাদকদ্রব্য ব্যবহার সনাক্ত করার জন্য আধুনিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। মাদকদ্রব্য ব্যবহার প্রমানিত হলে ব্যবহারকারী খেলোয়াড়কে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে।

১৭। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়িত্ব ঃ
                                Go TOP

১৭ঃ১। পৌর কর্পোরেশন ও পৌরসভাসমূহ তাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখবে এবং ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও অবকাঠামো সৃষ্টিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।

১৭ঃ২। জেলা, থানা ও ইউনিয়ন পরিষদসমূহ স্ব স্ব বাজেটে ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং অবকাঠামো সৃষ্টির বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

১৭ঃ৩। সারাদেশে ষ্টেডিয়াম, খেলার মাঠ, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, জিমন্যাসিয়াম, সুইমিং পুল এবং অন্যান্য ধরনের ক্রীড়া মাঠের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

১৮। ক্রীড়া উন্নয়নে পরিকল্পনা ঃ                                                Go TOP

ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ, বস্তুগত সুবিধা সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সকল বিষয় বিবেচনায় রেখে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

১৯। ক্রীড়া উন্নয়নে বস্তুগত সুবিধা ও অবকাঠামোঃ                              Go TOP

গ্রামাঞ্চল হতে মহানগরী পর্যন্ত সকল পর্যায়ে উপযোগিতার ভিত্তিতে খেলার মাঠ, খেলাধূলার জন্য আন্তঃকক্ষ সুবিধা, সুইমিং পুল বা পুকুর ইত্যাদি পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা। সম্পদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ইত্যাদিতে সম্ভাব্য ক্রীড়ার ব্যবস্থা গ্রহণ। পর্যায়ক্রমে এই অবকাঠামো এমনভাবে সৃষ্টি করতে হবে যাতে প্রতিটি গ্রামে অন্ততঃ একটি খেলার মাঠ ও একটি সাঁতারের পুকুর, প্রতি থানায় একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স, জেলাগুলোতে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, অন্ততঃ পক্ষে ৪/৫টি করে উন্মু্ক্ত খেলার মাঠ এবং মহানগরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধুনিক ও উন্নতমানের ভৌত ক্রীড়া স্থাপনা সুবিধাদির সৃষ্টি হয়।

২০। বিদ্যমান ক্রীড়া কাঠামোর সংস্কার ও পুনর্গঠন                           Go TOP

দেশে বিদ্যমান সরকারী ও বেসরকারী ক্রীড়া কাঠামোকে যুগোপযোগী করে পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।

২০ঃ১। ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিদ্যমান তিনটি সরকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়া পরিদপ্তরকে স্বার্থক সমন্বয় করে একটি শক্তিশালী ও একক জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা গঠন করতে হবে। বিভাগ ও জেলা পর্যায় পর্যন্ত এই সংস্থার কার্যালয় থাকবে।

২০ঃ২। সকল জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাকে অধিকতর গণতন্ত্রায়ণ ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। সরকারী খাতের উপর এসব প্রতিষ্ঠানের নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে হবে। বেসরকারী খাতের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নের উপর জোর দিতে হবে।

২১। বাংলাদেশ অলিম্পিক সমিতি ও জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহ ঃ         Go TOP

২১ঃ১। বিশ্ব অলিম্পিক চার্টারের অন্তর্গত বিধি-বিধানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অলিম্পিক সমিতি কতর্ৃক দেশে অলিম্পিক আন্দোলনকে জোনদারকরণ এবং সংশ্লিষ্ট খেলাধূলার বহুমুখী উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ। আন্তর্জাতিক অলিম্পিকের পুষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের নিমিত্ত জাতীয় পর্যায়ে প্রাথমিকভাবে ক্রীড়াবিদ নির্বাচন এবং প্রচলিত নিয়মে তা চূড়ান্তকরণ ও দল প্রেরণ।

২১ঃ২। জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহ কর্তর্ৃক সর্বপ্রকারের জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণার্থে প্রাথমিকভাবে দল/ক্রীড়াবিদ নির্বাচন/নির্ধারিত খেলার মান উন্নয়নে বয়সভিত্তিক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। ক্রীড়া ফেডারেশনের আওতাভুক্ত সকল স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা প্রদান ও সমন্বয় সাধন।

২২। গণক্রীড়া ও ক্রীড়া উৎসব ঃ 
                                             Go TOP

২২ঃ১। সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের অধিকারী সুশৃংখল জাতি গঠনের স্বার্থে এবং জাতীয ক্রীড়ায় আবহমান বাংলায় লোকায়ত ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও উৎসবকে উৎসাহিত করা হবে। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে-

২২ঃ২। বছরের নির্দিষ্ট একটি দিন-কে ক্রীড়া দিবস হিসাবে পালন করা;

২২ঃ৩। নৌকা বাইচ, লাঠি খেলা ও চট্টগ্রামের জব্বরের বলী খেলার ন্যায় গণ ক্রীড়া-কে উৎসাহিত ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে ক্রীড়া উৎসবে পরিণত করা; এবং

২২ঃ৪। সকলের জন্য ক্রীড়া আন্দোলন গড়ে তুলে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া।

২৩। ক্রীড়ায় অর্থায়ন ঃ                                                          Go TOP

২৩ঃ১। দান, অনুদান, স্পন্সরশীপ, টিভি সম্প্রচার হতে অর্থায়ন, লটারী ইত্যাদির মাধ্যমে ক্রীড়াখাতে আয় বৃদ্ধি করা। তবে সংগৃহীত অর্থ যাতে বিধি-বর্হিভূতভাবে ব্যয় না করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এই লক্ষ্যে সরকার কতর্ৃক আর্থিক তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা থাকবে।

২৩ঃ২। বাজেটে ক্রীড়া খাতে সম্পদের লভ্যতা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।

২৩ঃ৩। বাজেটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রীড়ার ব্যয় প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়াতে হবে। সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, সামরিক, আধা সামরিক ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের বাজেটে ক্রীড়ার জন্য অর্থের সংস্থান রাখা।

২৩ঃ৪। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সাথে যোগসুত্র বলিষ্ঠতর করে ক্রীড়াক্ষেত্রে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা।

২৩ঃ৫। অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তিতে ক্রীড়া উন্নয়নকে গুরুত্ব প্রদান করা।
২৪। ক্রীড়া সংগঠনে নেতৃত্ব ও ক্রীড়া সংগঠনসমূহের নির্বাচন                 Go TOP

২৪ঃ১। সকল ক্রীড়া সংগঠন যেমন থানা, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহ পরিচালনার দায়িত্ব অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত কতর্ৃপক্ষের উপর ন্যস্ত হবে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ অলিম্পিক সমিতি গঠিত হবে।

২৪ঃ২। সকল ক্রীড়া সংগঠন/সংস্থা/ফেডারেশনসমূহ নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠিত হবে। এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনসমূহ সরকার কতর্ৃক অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুসরণ করবে। এই সকল সংস্থাকে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব সরকারকে অবহিত করতে হবে। সরকার সকল ক্রীড়া ফেডারেশন/সংস্থার আর্থিক বিষয় তত্ত্বাবধান করবে।

২৫। ক্রীড়া নীতির বাস্তবায়ন ঃ                                                  Go TOP

২৫ঃ১। ক্রীড়ানীতি বাস্তাবায়নে মূল ভূমিকা পালন করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরসমূহকে দিক নির্দেশনা প্রদানসহ তদারকীর দায়িত্ব যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পালন করবে।

২৫ঃ২। শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্বীয় অধীনস্থ দফতর ও সংস্থার মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রের জন্য ক্রীড়া নীতি বাস্তবায়নে সহযোগী ভূমিকা পালন করবে।

২৫ঃ৩। ক্রীড়া উপদেষ্টা কাউন্সিল ঃ ক্রীড়ানীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ক্রীড়ার প্রসার তথা মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জাতীয় পর্যায়ের নীতি নির্বাচনের জন্য বর্তমান জাতীয় ক্রীড়া কাউন্সিলকে পূর্নগঠন করে একটি শক্তিশালী জাতীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা প্রয়োজন। ক্রীড়ার উন্নয়ন ও প্রসারে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রীবর্গ, একই মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ এবং অলিম্পিক সমিতি, জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন ও স্থানীয় ক্রীড়া সংস্থার সর্বোচ্চ কর্মকর্তাগণ এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এই কাউন্সিলের সদস্য হবেন। কাউন্সিল হবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পর্ষদ। কাউন্সিল প্রতিবছর অন্ততঃ একটি সভায় মিলিত হবেন। প্রস্তাবিত একক জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা কাউন্সিলকে সাচিবিক সহযোগিতাসহ সকল সহায়তা প্রদান করবে।

২৬। ক্রীড়া নীতি পর্যালোচনা ঃ                                                 Go TOP

প্রতি পাঁচ বৎসর অন্তর ক্রীড়া নীতির পর্যালোচনা এবং সহয়োপযোগী পরিবর্তন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজনের ব্যবস্থা গ্রহণ।



                                     --- সমাপ্ত---