Policy : National Youth Policy, 2003


                            গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
                          
    জাতীয় যুবনীতি ২০০৩
                          
   
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

--------------------------------------------------------------------------------

সূচিপত্র

১.০ ভূমিকা
২.০ উদ্দেশ্যাবল
৩.০ যুব সমস্যা
৪.০ যুব অধিকার
৫.০ যুব দায়িত্ব
৬.০ যুব কার্যক্রম
৭.০ বাস্তবায়ন কৌশল
৮.০ জাতীয় যুবনীতি বিষয় উপদেষ্টা কমিটি
৯.০ জাতীয় যুবনীতির বাস্তবায়ন পরীবীক্ষণ ও পর্যালোচনা

----------------------------------------------------------------------------------

ভূমিকা ঃ

১.১। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ১৫ অনুচ্ছেদে অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদন শক্তির ক্রমবৃদ্ধি সাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তগত ও সংস্কৃতিগত মানের উন্নতি সাধন করা রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে স্বীকৃত। এছাড়া সংবিধানের ১৪.১৭ ও ২০ অনুচেছদগুলোতে যুব শ্রেণীসহ সমগ্র জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

১.২। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুব শ্রেণীভুক্ত। জনসংখ্যার এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের জন্য আজ জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাস যুব সমাজের গৌরবদীপ্ত ভূমিকায় ভাস্বর। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণভু্যত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাত্তোরকালে জাতীয় ইতিহাসের সকল ক্রান্তিলগ্নেই রয়েছে। যুবদের দৃপ্ত পদচারণা। গৌরবময় অতীত ইতিহাসের আলোকে যুবদেরকে অনুপ্রাণিত করে তোলা একান্ত অপরিহার্য।

১.৩। যুবসমাজ সব সময়ই যে কোন দেশের সর্বাপেক্ষা বলিষ্ঠ, আত্মপ্রত্যয়ী, সৃজনশীল ও উৎপাদনক্ষম চালিকাশক্তি। জাতির আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন প্রকৃতপক্ষে যুবদের মাধ্যমেই দেখানো সম্ভব। যুবদের অফুরন্ত সম্ভাবনাকে তাদের নিজেদের জন্য, সমাজের জন্য ও জাতির জন্য কাজে লাগাতে হবে। যুবদের কর্মস্পৃহা ও কর্মোদ্দীপনার উপর জাতির উন্নতি সর্বোতভাবে নির্ভরশীল। এ জন্য যুবদের সকল শক্তি ও সম্ভাবনার বিকাশ এবং সদ্ব্যবহার জরুরী। এ বিশ্বাসের ভিত্তিতেই বর্তমান যুবনীতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

১.৪। জাতীয় অগ্রগতির লক্ষ্যে যুবদের জন্য উপযুক্ত উৎপাদনমুখী বাস্তব শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আত্মকর্মসংস্থান, নেতৃত্বসহ সম্ভাবনাময় সকল গুণাবলীর বিকাশ সাধনের অনুকূলে পরিবেশ সৃষ্টি করা ; সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে জাতীয় উন্নয়নের মূল ধারায় কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার নিমিত্ত যুবদের মধ্যে গঠনমূলক মানসিকতা তৈরিসহ জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কুতিতে উজ্জীবিত করে সুনাগরিকের দায়িত্ববোধ সম্পন্ন সুশৃংঙ্খল, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মীবাহিনী গড়ে তোলাই জাতীয় যুবনীতির মূল লক্ষ্য।

১.৫। বাংলাদেশে যুব ক্ষেত্রে অনুসৃত বিংশ শতাব্দীর আশির দশকের যুবনীতিকে যুগোপযোগী এবং পূর্ণাঙ্গ রুপ দিয়ে বর্তমান জাতীয় যুবনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। সমগ্র বিশ্বের পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক অবস্থা, জ্ঞান বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তির অভাবিত অগ্রগতি, যুবসমাজের সমস্যা, অধিকার, দায়িত্ব-কর্তব্য, চলমান যুব কার্যক্রম ইত্যাদির প্রেক্ষাপটে যুবনীতির বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নীতি অনুযায়ী ১৮-৩৫ বছরের বয়সসীমার মধ্যে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশী নাগরিক যুব বলে গণ্য হবে।

২। উদ্দেশ্যাবলী ঃ  
২.১। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও নীতি-আদর্শের প্রতি যুবদের মাঝে সচেতনতা ও শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি এবং একই সাথে যুবদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

২.২। যুবদের ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে যথোপযুক্ত বাস্তবমূখী শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

২.৩। স্থানীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের প্রতি যুবদেরকে বিশেষ করে বেকার যুবদেরকে উৎসাহিত করা ও তাদের অন্তর্নিহিত সকল সম্ভাবনাময় গুণাবলী বিকাশের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা।

২.৪। জাতীয় উন্নয়নের মূলধারার সাথে অংশীদার হিসেবে সম্পৃক্ত হওয়ার মত যুবদেরকে পড়ে তোলা।

২.৫। গৌরবময় সকল ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি সচেতনতাসৃষ্টিসহ যুবদেরকে নৈতিক অবক্ষয় ও বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করে নৈতিক ও সমাজ গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা এবং অপরাধমূলক সকল কার্যক্রম থেকে যুবদেরকে নিবৃত্ত রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করা।

২.৬। স্বেচ্ছাসেবা কার্যক্রমে উৎসাহিত হওয়ার জন্য যুবদেরকে সহায়তা করা এবং জাতীয় সেবামূলক বিভিন্ন কাজে যেমন ঃ ঠিকাদান, বৃক্ষরোপণ, এইডস ও মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং পুনর্বাসন ইত্যাদি কাজে যুবদের সম্পৃক্ত করা।

২.৭। সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সুস্থ বিনোদনমূলক সকল কার্যক্রমে যুবদের অবদান রাখার ও অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং এ ব্যাপারে সকল প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা।

২.৮। তথ্য-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে এর সাথে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সকল সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা প্রদান করা।

২.৯। যুব বিষয়ক তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে যুব সংশি্নষ্ট তথ্যাদির প্রাপ্তির অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করা।

২.১০। গ্রামীন পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করে যুবদের যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে যথ্যেপযুক্ত উৎপদানমূখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।

২.১১। জাতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ডকে অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে উন্নয়নের সকল স্তরে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুবক ও যুব মহিলাদের সমহারে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।

২.১২। যুবদের স্বাস্থ্য, মানবাধিকারসহ প্রতিবন্ধী যুবদের সামাজিক অধিকার সহায়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণের লক্ষ্যে যুবদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলীর বিকাশ সাধনে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা।

৩। যুব সমস্যা ঃ  
যুব সমস্যা চিহ্নিতকরণের জন্য বর্তমানে বিরাজমান নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার অভাব, দেশে বাস্তবমুখী শিক্ষার অপ্রতুলতা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ না করা (ড্রপআউট), শ্রম বিমুখতা, বিভিন্নমুখী বেকারত্ব, এইডস ও মাদকাশক্তিসহ অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপে যুবদের সংশি্নষ্টতা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য-তথ্য সম্পর্কিত অজ্ঞতা, আত্মকর্মসংস্থানে উদ্যোগী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও ঋণ সাহায্যের অপ্রতুলতা, প্রয়োজনীয় কারিগরী ও প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাব, তথ্য প্রযুক্তিতে অদক্ষতা, খেলাধুলা, সুস্থ বিনোদনের অনুকূল পরিবেশের অভাব, পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অভাব, মূল্যবোবেধর অবক্ষয় ইত্যাদির প্রতি সমধিক গুরুত্বারোপ করা দরকার। যুবদের জন্য উন্নয়নমূলক যে কোন উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে যুব সংশি্নষ্ট বিদ্যমান সমস্যাদি চিহ্নিত করা প্রয়োজন। এ জন্য যুবদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া জরুরী।

৪। যুব অধিকার ঃ  
৪.১। অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা আশ্রয় ও চিকিৎসসহ জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সকল মৌলিক চাহিদা মেটানোর সুযোগ দেশের প্রতিটি নাগরিকের ন্যায় যুব সমাজেরও থাকবে।

৪.২। কর্মের গুণ ও পরিমান বিবেচনা করে আত্মকর্মসংস্থানসহ যুক্তিসংগত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে দেশে বিদেশে কর্মসংস্থান প্রাপ্তিতে যুবদের সুযোগ থাকবে।

৪.৩। যুবদের যুক্তিসংগত বিশ্রাম, সুস্থ বিনোদন ও অবকাশের সুযোগ থাকবে।

৪.৪। সামাজিক নিরাপত্তা অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি, পঙ্গুত্ব, বৈধব্য, মাতৃপিতৃহীনতা কিংবা অনুরুপ অন্য কোন পদ্ধতিতে আয়ত্বাতীত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারীভাবে সাহায্য/সহযোগিতা লাভের সুযোগ থাকবে।

৪.৫। যুবদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুবদের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ।

৫। যুব দায়িত্ব ঃ
৫.১। জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি, ঐতিহ্য, সহনশীলতা ও আইন-শৃংখলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

৫.২। আত্মোন্নয়ন ও সৃজনশীলতা জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়মিত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।

৫.৩। সকল ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করা।

৫.৪। মহিলা, শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রতিবন্ধী ও অবহেলিতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবার মনোভাব গড়ে তোলা।

৫.৫। সন্ত্রাস, সামাজিক অবিচার, শোষণ, দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত সুশীল সমাজ সৃষ্টিতে অবদান রাখা।

৫.৬। সরকার কর্তৃক গ্রহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করা এবং শিল্পায়ন, মৎস্য চাষ, বনায়ন এবং বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করা।

৫.৭। কর্মমুখী শিক্ষা প্রসারের মাধ্যমে কর্মোদ্যমে বিশ্বাসী এবং সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখা।

৫.৮। জাতীয় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়নের দূত হিসেবে কাজ করা।

৫.৯। বর্তমান কাজের মাধ্যমে ভবির্ষ্যৎ প্রজমমের স্বার্থ অধিকার ক্ষুন্ন না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

৫.১০। প্রাকৃতিক দুযের্াগ, মহামারী এবং জাতীয় পর্যায়ের সমস্যা নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা পালনের মনোভাব গড়ে তোলা।

৬। যুব কার্যক্রম ঃ
৬.১। একটি জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, শিক্ষা ও ভৌগলিক অবস্থান নির্বিশেষে সামাজিক ন্যয় বিচার ও সমতার ভিত্তিতে যুবদের জন্য আত্মকর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ সুবিধা দেশের সর্বত্র পেঁৗছে দেয়ার জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরকারী ও বেসরকারী সংস্থাসমূহে সমন্বিত প্রয়াসের সুযোগ সৃষ্টিতে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

৬.২। যুব কর্মসূচি গ্রহণের সময় দারিদ্র্য-সীমার নিচে অবস্থানকারী, সুবিধা বঞ্চিত ও বেকার যুবদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার লক্ষ্যে প্রাপ্ত ও স্থানীয় সম্পদের সুষম বন্টন ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

৬.৩। শ্রমের প্রতিন যুবদের শ্রদ্ধাশীল ও কর্মক্ষমতার উপর আস্থা স্থাপনে উৎসাহ প্রদান করার প্রক্রিয়া প্রতিটি যুব কর্মসূচির অবিছেদ্য অঙ্গ হবে।

৬.৪। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে যুবদের দায়িত্ব ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সকল স্তরে যুবদের প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব প্রদান করা হবে।

৬.৫। যুবদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও সহজতর করার লক্ষ্যে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

৬.৬। বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন/যুব সমবায় সমিতিসমূহকে সুসংগঠিত এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে তাদের সম্পৃক্ত করার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬.৭। যুব কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নে উৎসাহ প্রদানের নিমিত্ত নিবন্ধনকৃত যুব সংগঠনসমূহকে সরকারী আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৬.৮। এইচআইভি/এইডস, এসটিডি, মাদক দ্রব্যের কুফল ও এ ধরণের সমস্যার ভযাবহতা সম্পর্কে সচেতন করা এবং এসব থেকে বিরত থাকার জন্য যুবদের উদ্বুদ্ধ করার কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।

৬.৯। গ্রাম পর্যায়ে যুবদের আত্মকর্মসংস্থানের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে যুবদের শহরমুখী অভিবাসন প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে গ্রামীণ সম্পদ বিকশিত করাসহ ব্যাপক যুব উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান অম্বেষী যুবদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন মিডিয়া এবং নিবিন্ধত যুব সংগঠনের মাধামে এ্যডভোকেসি প্রদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

৬.১০। প্রত্যেক যুব মহিলার জন্য সমভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য ও বিনোদনের ব্যবস্থাসহ সকল বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করার অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

৬.১১। যৌবনে পদার্পনোদ্যত বয়সের (অফড়ষবংপবহব) প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রকৃত ধারণা দেয়ার নিমিত্ত ঐ বয়সীদেরসহ সমাজের সংশি্নষ্ট অন্যান্যদের সম্পৃক্ত করে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে।

৬.১২। পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, মৎস্য চাষ, বনায়ন ও বৃক্ষরোপণে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করার জন্য স্বেচ্ছাসেবঊ যুবসংগঠনকে উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হবে।

৬.১৩। যুবদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা-চেতনায় সমূদ্ধ করে সর্বক্ষেত্রে কম্পিউটার লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ কর্মিবাহিনী গড়ে তোলার জন্য আইটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

৬.১৪। যুব-নেতৃত্বের গুণাবলীর বিকাশ ঘটানোর জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

৬.১৫। সন্ত্রাস, শোষণ, দুণর্ীতি, অপরাধমুক্ত ভীতিহীন সমাজ সৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখার জন্য যুবদের মাঝে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা তৈরীর প্রয়াস প্রতিটি যুব কর্মকান্ডের অন্তভর্ুক্ত করা হবে।

৬.১৬। যুব উন্নয়ন বিষয়ক কর্মসুচি প্রণয়নের কাজে সহায়তা করার জন্য যুব বিষয়ক তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৬.১৭। দেশের অভ্যন্তরে ও বিভিন্ন দেশে যুব প্রতিনিধি বিনিময় কার্যক্রম আরো বিস্তৃত ও জোরদার করা হবে।

৬.১৮। দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে যুবদের মাঝে খাস জমি ও বদ্ধ জলাশয় সহজা শর্তে ইজারা প্রদানের ব্যবস্থা হবে।

৬.১৯। দুঃস্থ ও সমস্যাগ্রস্ত যুবদের জন্য যথাসম্ভব আইনী সহায়তা প্রদান করা হবে।

৬.২০। দেশের যুবদের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আদমশুমারীকালে যাতে যুব বয়স সীমার (১৮-৩৫) জনসংখ্যার হিসাব আলাদাভাবে নেয়া সম্ভব হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।

.০ বাস্তবায়ন কৌশল ঃ  

৭.১। মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের নিমিত্ত কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে যুবদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কারিগরী পরামর্শ কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক স্থাপন করা। স্থানীয় প্রশাসন ও যুব প্রতিনিধি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নদের পরামর্শক্রমে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে উক্ত কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা।

৭.২। প্রামাণ্য চিত্র, শটফিল্ম, প্রতিবেদন, সাক্ষাতকার ইত্যাদিসহ সরকারি-বেসকারী পর্যায়ের সকল প্রচার মাধ্যমের সুযোগ ব্যবহার করে শ্রমের প্রতি এবং নিজস্ব কার্যক্ষমতার উপর যুবদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ, আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করা, মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার, এইডস, এসটিডি, সন্ত্রাসসহ সকল অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যুবদের ভিতর সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। যুবদেরকে উদ্বুদ্ধ করা লক্ষ্যে প্রচার মাধ্যমের সহযোগিতায় যুবদের জন্য বিদ্যমান কর্মসূচি এবং সফল আত্মকর্মীদের সফল গাঁথা ব্যাপক নিয়মিতভাবে প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ প্রচারের নিমিত্ত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশি্নষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী কমিটি থাকবে।

৭.৩। আত্মকর্মসংস্থানকে সহজতর করার লক্ষ্যে আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত যুবদেরকে সহজশর্তে ও স্বল্পসুদে ক্ষুদ্র ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এ জন্য বাস্তবভিত্তিক একটি ক্রেডিট ম্যানুয়েলও থাকবে।

৭.৪। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যাতে যুব সংগঠনগুলোকে নিবন্ধন করতে পারে সেজন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সংশি্নষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় আইনগত ভিত্তি তৈরীর উদ্যোগ নেবে।

৭.৫। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠনসমূহকে সক্রিয়ভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত, উৎসাহিত ও স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্পভিত্তিক অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে যুব/যুব সংগঠন/যুব সংগঠকদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করা হবে।

৭.৬। সারাদেশেব্যাপী যুযোগপযোগী কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনসহ বিদ্যমান কেন্দ্রসমূহে আধুনিক প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদির যোগান দেয় হবে। এ সকল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হতে যুবদেরকে উদ্যোগ সৃষ্টির উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

৭.৭। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ অবকাঠামোকে পর্যায়ক্রেমে উপজেলা পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

৭.৮। যুব সমবায় সমিতি, স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন ও আত্মকমর্ী যুবদের দ্বারা উৎপাদিত পণাসমাগ্রী বাজারজাতকরণে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

৭.৯। যুবমহিলাদেরকে সকল প্রকার সামাজিক কুসংস্কার, শোষণ ও নির্যাতনের হাত হতে রক্ষা যুবমহিলাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, যুবদের স্বাস্থ্য বিশেষ করে প্রজনেন স্বাস্খ্য সেবা প্রদান, যুবমহিলাদের ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয়ে যুব সেক্টরে কার্যরত সরকারী -বেসরকারী সংস্থাগুলো যাতে নিজের কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে এবং এ সকল বিষয়ে অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগকেও সহযোগিতা করতে পারে সে ব্যাপারে সর্বোতভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হবে।

৭.১০। যুব সংগঠন কর্তৃক শিল্প কারখানা স্থাপন, মৎস্য চাষ, বনায়ন ও বৃক্ষরোপণে অনুদান ও স্বীকৃতি প্রদানে সংশি্নষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগকে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যুবসংগঠনকে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

৭.১১। যুবদের মাঝে বিজ্ঞান চর্চার উদ্যোগ ও পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সংশি্নষ্ট/সংস্থার সহযোগিতায় লাগসই প্রযুক্তি নির্ভর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৭.১২। যুবদের আত্মিক ও মানসিক উন্নয়ন, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ সৃষ্টি, উন্নত জীবনযাত্রা, দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনায় বিশ্বাস জন্মাবার নিমিত্ত সংশি্নষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও পন্ডিতবর্গের সহযোগিতায় সহজবোধ্য ভাষায় পুস্তক প্রকাশ করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, স্বেচ্ছসেবী সংগঠন, পাঠাগার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণনের ব্যবস্থা করা হবে।

৭.১৩। যুবদের জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সঠিক পরিসংখ্যান, তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্নেষন ও গবেষণার নিমিত্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে তথ্য ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশি্নষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

৭.১৪। যুবদের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য সরকারীভাবে গৃহীত সকল যুব কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়ন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৭.১৫। শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে সরলভাবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ক্রীড়া ও সুস্থ বিনোদনের প্রতি যুবসগঠনের সদস্যদেরকে আগ্রহী করে তোলার জন্য এ্যাভোকেসি প্রদান কর্মসূচিকে জোরদার করা হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমী ও ক্রীড়া সংস্থাসহ অন্যান্য সংস্থার সাথে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।

৭.১৬। দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুব বিনিময় কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে সংশি্নষ্ট মন্ত্রণালয় ও বেসরকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্ঠায় বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনায় প্রণয়ন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নেয়া হবে। এসব কার্যক্রমে সার্ক, কমনওয়েলথ ও জাতিসংঘ সংস্থার ন্যায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রমের সাথে যুবদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। এছাড়া এসব সংস্থার আওতায় যুব পুরস্কার প্রবর্তনের উদ্যোগও নেয়া হবে।

৭.১৭। স্বেচ্ছাস্বেবী যুব সংগঠনের মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে বেসরকারী পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলা হবে।

৮। জাতীয় যুবনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি ঃ
জাতীয় যুবনীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদানের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান উপদেষ্ট করে যুবনীতি বিষয়ক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উপদেষ্ট কমিটি গঠিত হবে। এ কমিটিতে যুব উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীবর্গ সদস্য হিসেবে থাকবেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় উক্ত উপদেষ্ট কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে।

৯। জাতীয় যুবনীতির বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও পর্যালোচনা ঃ
জাতীয় যুবনীতির বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ করার জন্য যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় ভিত্তিক একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিতে যুব সংগঠনের প্রতিনিধিও অন্তভর্ুক্ত থাকবে। অন্যদিকে পরিবর্তনশীল সময়ের চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতীয় যুবনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির পরামর্শ মোতাবেক এবং পরিবীক্ষণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যুবনীতি যুগোপযোগী করা হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যুবনীতির বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও পর্যালোচনার সার্বিক দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।


                                     --- সমাপ্ত---